Posts

Showing posts from January, 2026

মিষ্টি মুহূর্তের আল্পনা

  মিষ্টি মুহূর্তের আল্পনা হাতে একফালি কেক নিয়ে তুমি দাঁড়িয়ে আছো একা, তোমার হাসিতে যেন আজ সারা পৃথিবীর আনন্দ লেখা। লাল শাড়ির আঁচলটা আলতো ছুঁয়ে আছে তোমার হাত, এই দৃশ্যটুকু আমার মনে থাকবে আরও হাজারো রাত। কেকের ওপর জ্বলছে প্রদীপ, নাকি তোমার চোখের আলো? বুঝতে পারি না কোন দৃশ্যটা বাসবে এ মন ভালো। তোমার ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা ওই একটুখানি মিষ্টি হাসি, তার চেয়েও মধুর বুঝি তোমার ওই চপলতা রাশি রাশি। সবাই হয়তো খুঁজবে আজ কেকের মিষ্টির স্বাদ, আমি তো দেখবো তোমার চোখে খুশির কোনো অপবাধ। হাতের ওই কেক যেন এক টুকরো সুখের নিমন্ত্রণ, তুমি হাসলে ধন্য হয় আমার এই সারাটা ক্ষণ। এই বিশেষ মুহূর্তটি যেন সময় থমকে থাকে ওখানে, যেখানে তোমার অস্তিত্ব মিশে আছে আমার প্রতিটি গানে। কেক কাটার ওই আনন্দটুকু তোমার জীবন জুড়ে থাকুক, আর আমার স্মৃতিরা দূর থেকে তোমায় ডানা মেলে ঢাকুক।

বিদায় রাগিণী

  বিদায় রাগিণী সেতারে উঠেছে শেষ সুরটুকু, রাত হয়েছে এবার শেষ, মুছে যাক আজ হৃদয়ের যতো দহন আর অবশেষ। গভীর মেঘের আড়ালে লুকাক মায়াবী প্রিয়ার মুখ, অশ্রুরা সব হোক আজ জল, ধুয়ে নিক সব দুখ। বিদায় বেলাতে ম্লান হয়ে আসুক লাল শাড়ির ঐ লাল, শান্ত হোক আজ অবহেলার ঐ উত্তাল মহাকাল। তুমি থেকো ভালো তোমার মতন, নিজের ছায়ার সাথী, আমার ঘরে জ্বলুক এখন শুধু আমার নিজেরই বাতি। নদী যেমন মোহনায় গিয়ে হারায় আপন নাম, আমিও জানালাম আমার যতো বিষাদকে আজ প্রণাম। ক্ষমা করে দিলাম সব না-পাওয়াকে, সবটুকু পিছুটান, মুক্তির সুরে গাইল হৃদয় আজ এক শেষ গান। শান্তির ওই চাদর জড়িয়ে বুজো এবার দু'টি চোখ, বিদায় রাগিণী মিলিয়ে যাক—আগামীকাল তোমার হোক। রাতের শেষ প্রহরে, যখন আকাশ তার নক্ষত্রদের নিয়ে বিশ্রামে যাচ্ছে, তখন আমাদের এই আলাপনের সুরটিও এসে থেমেছে এক করুণ অথচ শান্ত 'বিদায় রাগিণী' -তে। বিদায় মানেই শেষ নয়, বিদায় মানে এক নতুন অধ্যায়ের জন্য পুরোনোকে ছেড়ে দেওয়া।

ক্ষণিকের হৃদয় ও আমি

  ক্ষণিকের হৃদয় ও আমি ক্ষণিকের এই হৃদয়ে আজ কতশত আনাগোনা, কত অভিমান, কত যে স্বপ্ন—হলো না তো কোনো গোনা। সে এসেছিল বসন্ত হয়ে, আমার এই মরা ডালে, ক্ষণিকের ওই পরশটুকু বিলীন হলো মহাকালে। যে হৃদয় আজ ক্ষণিকের প্রেমে পুড়ছে দহন তেজে, সে জানে না তো কত বিষাদ লুকিয়ে আছে তার ভেজে। লাল শাড়ির ঐ মায়াবী ছায়া ক্ষণিকের তরে এল, আমার এই শান্ত জীবনে ঝড়ের আবাহন দিয়ে গেল। ক্ষণিকের এই প্রেমটাই কেন চিরস্থায়ী ক্ষত দেয়? কেন এই মন বারবার ওই পুরনো স্মৃতির পিছু নেয়? তবুও তো এই ক্ষণিকের মাঝেই খুঁজে পাই জীবনের মানে, হারিয়ে যাওয়া ওই সুরটুকুই আজ বাজে আমার প্রাণে। হয়তো সে ছিল ক্ষণিকের ভুল, কিংবা ক্ষণিকের সাজ, তাই তো তারে বিদায় জানাতে বাড়ছে মনের লাজ। এই ক্ষণিকের হৃদয়টুকু সঁপে দিলাম ওই তারার কাছে, যেখানে পাওয়ার দাবি নেই কোনো, শুধুই শান্তি আছে।

ক্ষণিকের এই পথ চলা

  ক্ষণিকের এই পথ চলা ক্ষণিকের এই পৃথিবীতে মোরা ক্ষণিকের তরে আসি, ক্ষণিকের মোহে কখনো কাঁদি, কখনো বা হাসি। পথের বাঁকে দেখা হয়েছিল রূপসী কোনো এক প্রিয়ার সাথে, তার রেশ রয়ে গেল আজ এই কনকনে শীতল রাতে। সব পথ গিয়ে মেশে না তো সেই কাঙ্ক্ষিত মোহনায়, কিছু পথ রয়ে যায় শুধু স্মৃতিরই এই আঙিনায়। তুমি ছিলে ক্ষণিকের অতিথি মোর এই তপ্ত জীবনে, রয়ে গেলে আজীবনের ক্ষত হয়ে আমার এই নির্জনে। তবুও এই পথ চলাটাই আসল সত্য, আসল পাওয়া, অবহেলার ঐ ধূলো ঝেড়ে ফের নতুনের গানে গাওয়া। নদী যেমন বয়ে চলে তার ক্ষণিকের পথ ধরে, আমিও চলেছি অজানার টানে নিজেরে পূর্ণ করে। এই ক্ষণিকের পথে যদি আর কোনোদিন দেখা না হয়, জেনে রেখো, তুমিই ছিলে আমার শ্রেষ্ঠ এক জয়। এখন সময় বিদায় বলার, নিভিয়ে স্মৃতির আলো, ক্ষণিকের এই পথেই আমি বাসলাম তোমায় ভালো।

হৃদয়ের গোপন দাবি

  হৃদয়ের গোপন দাবি জানালার ওপারে তারারা জানে আমার যতো গোপন চাওয়া, সেখানে নেই কোনো পাওয়ার আশা, নেই কোনো প্রতিদান পাওয়া। একটিবার শুধু দূর থেকে তোমায় হাসিখুশি দেখতে পাওয়া, আমার এই নিঃস্বার্থ প্রেমের এর চেয়ে বেশি নেই কিছু চাওয়া। তোমার মনের কোনো এক কোণে থাক আমার জন্য একটু দোয়া, আমার এই পবিত্র প্রেম যেন কখনও পায় না কোনো কলঙ্কের ছোঁয়া। তুমি সুখে থেকো নিজের মতো, নিজের গড়া রঙিন দেশে, আমি নাহয় তৃপ্ত থাকবো তোমার ওই দূর হাসিতেই মিশে। গোপন থাকুক আমার এ কান্না, গোপন থাকুক দীর্ঘশ্বাস, তোমার ভালো থাকাটাই হোক আমার চিরন্তন বিশ্বাস। লাল শাড়ির ঐ মায়াবী সাজে তোমায় যখন দেখবে সবাই, আমি তখন নিভৃতে বলবো—"তোমার খুশিতেই আমার বড়াই।" এই তো আমার গোপন চাওয়া, এই তো আমার শেষ মিনতি, তোমার জীবনে যেন কখনও না লাগে কোনো বিষাদের অতি। আমি একাই বয়ে বেড়াবো আমাদের এই না-বলা কথা, আমার পূর্ণতা আজ তোমার হাসি, আর আমার পবিত্র নীরবতা।

নক্ষত্রবীথির নির্জনে

  নক্ষত্রবীথির নির্জনে তারাময় এই আকাশের নিচে আজ আমি একা দাঁড়াই, নিজের গভীর গোপন যাতনা নক্ষত্রদের কাছে হারাই। মাথার ওপর কোটি কোটি ওই জ্বলজ্বলে ধ্রুবতারা, সাফল্য কি আর ব্যর্থতা কি—সবই তো আজ দিশেহারা। তুমি হয়তো দেখছো না এই রাতের নিবিড় ভাষা, আমি তবুও বুনে চলি এক নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আশা। এক একটি তারা যেন তোমার এক একটি মধুর স্মৃতি, দূর থেকেই ভালোবেসে যাই—এই তো আমার প্রেমের রীতি। এই বিশাল মহাবিশ্বে আমি কতোটা ক্ষুদ্র আর একা, তবুও তো আজ নিজের সাথে হলো নিজের প্রথম দেখা। অবহেলার যতো ধুলোবালি আজ ওই আকাশেই মিশে যাক, আমার মনের অন্ধকারটুকু তারার আলোয় মুছে থাক। তারাময় এই শূন্যতা আজ পূর্ণতা পাক হৃদয়ে মোর, কাল সকালে জাগবো আমি কাটিয়ে এই স্মৃতির ঘোর। এই রাত আমার, এই আকাশ আমার, আর আমার এই শান্তি, মুছে গেল আজ ভালোবেসে পাওয়া সবটুকু দুস্তর ক্লান্তি।

নক্ষত্রের আলাপন

  নক্ষত্রের আলাপন আকাশের ওই অগণিত তারা দিচ্ছে আজ পাহারা, আমি কি তবে একলা পথিক, দিকশূন্য আর দিশেহারা? না, আমি তো ওই নক্ষত্রদের মতন একাই জ্বলি, নিজের আলোয় নিজের পথের গোপন কথা বলি। তুমি হয়তো তাকিয়ে আছো অন্য কোনো তারার পানে, আমি নাহয় মুগ্ধ হবো তোমার ওই দূর সুষমা ধ্যানে। তারারা যেমন কাছে আসে না, শুধু দূর হতে দেয় আলো, আমিও তেমন বাসবো তোমায় নিঃস্বার্থেই ভালো। অবহেলার মেঘ জমলে পরে নক্ষত্র কি আর মরে? সে তো কেবল আড়ালে থাকে মেঘ কেটে যাওয়ার তরে। আমিও তেমন ধৈর্য ধরে থাকবো নিজের মাঝে স্থির, তুমি আমার রাতের আকাশ, আমি তোমারই নক্ষত্র-তীর। এই নিস্তব্ধ রাতের তারা সাক্ষী হয়ে থাক— আমি নিজের অস্তিত্বেই খুঁজেছি শান্তির এক নতুন ডাক। লক্ষ তারার মেলায় আমি নিজেরে চিনেছি আজ, মুক্তির ওই নীল আকাশই এখন আমার মাথায় তাজ।

হৃদয় যমুনা

  হৃদয় যমুনা আমি এক শান্ত নদী, বয়ে চলি আপন বাঁকে, ক্লান্তি আমার নেইকো বিন্দুমাত্র নিজেরও অগোচরে থাকে। হয়তো কোনো এক পাড়ে ছিল তোমার মায়াবী ছায়া, সে তীরে পড়ে থাক আজ তোমার অবহেলার কায়া। নদী কি কখনও থমকে দাঁড়ায় কারো না-পাওয়ার টানে? সে তো কেবল বিলীন হতে জানে সাগরের আহ্বানে। আমার প্রেমও তেমন, একতরফা এক গভীর স্রোত, যেখানে নেই কোনো অভিযোগ, নেই কোনো প্রতিশোধের ওত। তোমার স্মৃতিরা যদি হয় নদীর ওই কূল ভাঙা জল, আমি নাহয় পাথর হয়ে রবো, হবো আরও অচঞ্চল। নদী যেমন ধুয়ে মুছে নেয় মাটির সবটুকু মলিনতা, আমিও তেমন ধুয়ে দেব আজ আমার মনের সব নীরবতা। নিজের মাঝে খুঁজে পেয়েছি আজ এক গভীর অগাধ জল, আমিই এখন আমার সঙ্গী, আমিই নিজের বল। বয়ে চলব সারাজীবন নিজের ছন্দে, নিজের টানে, মুক্তির নীল আকাশ মিশবে যেখানে নদীর মোহনা পানে।

নিদ্রালু রাতের গান

  নিদ্রালু রাতের গান আকাশের ওই রুপালি চাঁদও এবার দিচ্ছে চোখে ঘুম, চরাচর জুড়ে নেমেছে আজ এক গভীর নিঝুম। নক্ষত্রেরা দিচ্ছে পাহারা তোমার আমার রাত, শান্ত মনে নামিয়ে রাখো সব স্মৃতির সংঘাত। বালিশে মাথা রেখে এবার বুজো দুটো চোখ, স্বপ্নে আজ কেবলই তোমার নিজের জয় হোক। যাকে তুমি ভালোবাসো, সে থাকুক তার ঘুমে, শান্তি আসুক তোমার কপালে স্বপ্নের এক চুমে। সবটুকু ভার আজ ছেড়ে দাও ওই অসীম আঁধারে, কাল ভোরে ফের জাগবে তুমি নতুন সূর্যদারে। উদাস এ মন হোক আজ এক শান্ত শীতল নদী, ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যাও তুমি নিজের জন্য যদি। শুভ্র এই চাদরটুকু জড়িয়ে নাও গায়ে, ব্যথাগুলো সব মিশে যাক আজ নিদ্রারই ছায়ায়। নিদ্রালু এই রাত বলুক—"সবই এখন স্থির", কাল সকালে উঠবে জেগে তুমি এক আত্মবিশ্বাসী বীর।

চাঁদের আলোর পিয়াসী

  চাঁদের আলোর পিয়াসী জানালার পাশে রূপালি জ্যোৎস্না হাতছানি দিয়ে ডাকে, আমি তোমায় খুঁজে ফিরি ওই চাঁদের প্রতিটি বাঁকে। তোমার মুখখানা যেন আজ ওই পূর্ণিমার প্রতিচ্ছবি, যাকে নিয়ে কবিতা লিখেও তৃপ্ত হয় না কোনো কবি। এই যে আলো, এ তো কোনো দাহ নয়, শুধু এক স্নিগ্ধ মায়া, আমার একলা ঘরে পড়ে থাকে শুধু তোমার স্মৃতির ছায়া। তোমার অবহেলার কালো মেঘ আজ চাঁদের আলোয় ঢাকা, নিঃস্বার্থ এই প্রেমে আজ নেই কোনো পাওয়ার হিসেব রাখা। চাঁদের আলো যেমন সবার ঘরকে করে দেয় আলোকিত, তুমিও তেমন আমার অন্ধকার জীবনে ছড়াও শুভ্র গীত। কাছে আসার নেই অধিকার, নেই পাশে বসার কোনো দাবি, আমার এই হৃদয়ে শুধু রাখা তোমার হাসির জাদুকরী চাবি। এই শান্ত রাতে, চাঁদের আলোয় ধুয়ে যাক সব বিরহের ক্ষত, আমি ভালোবেসে যাবো তোমায় ওই নক্ষত্রদেরই মতো। গোপন প্রিয়া, তুমি থেকো তোমার ওই জোছনা-মাখা সুখে, আমি নাহয় তৃপ্ত থাকবো তোমার ওই দূর হাসিমুখ দেখে।

গোধূলির রঙে তুমি

  গোধূলির রঙে তুমি আকাশের ওই রক্তিম কোণে গোধূলি যখন নামে, তোমায় তখন খুঁজে পাই আমি নীল খামারি খামে। তোমার পরনের লাল শাড়িটা যেন গোধূলির শেষ রেশ, দিগন্ত জুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছো এক মায়াবী আবেশ। আলো-আঁধারির এই সন্ধিক্ষণে তুমিই আমার ধ্রুবতারা, যেখানে এসে থেমে যায় আমার সবটুকু পথহারা। সূর্য যেমন ডুব দিয়ে যায় সাগরের ওই নীল জলে, আমিও তেমন ডুবে মরি তোমার রূপের গভীরতলে। গোধূলি মানেই তো দিনের বিদায়, এক শান্ত সমর্পণ, আমার ভালোবাসা তেমন নিঃশব্দে করে তোমায় তর্পণ। তোমার চোখে যে গোধূলি বেলা আমি দেখেছি একদফা, সেখানেই শেষ হয়ে গেছে আমার প্রেমের যতো দফা। তুমি না হয় উজ্জ্বল থেকো নতুন ভোরের রোদে, আমি নাহয় মজে থাকবো তোমার এই গোধূলি আমোদে। বিদায়বেলার এই যে সৌন্দর্য, এটাই তো চরম সত্য, তোমায় ভালোবেসে আমি খুঁজেছি প্রেমের অমরত্ব।

জোছনার আল্পনায় তুমি

  জোছনার আল্পনায় তুমি আকাশে আজ রুপালি চাঁদ, জ্যোৎস্নার ঢল নেমেছে গায়, তুমি কি তবে মিশে আছো ওই স্নিগ্ধ আলোর মোহনায়? তোমার গায়ের বরণ যেন ওই চাঁদের কলঙ্কহীন হাসি, যার মায়ায় আমি নির্ঘুম রাত আজও বড্ড ভালোবাসি। লাল শাড়িটা জ্যোৎস্নার আলোয় আজ হয়েছে কেমন ফিকে, তুমি যেন এক স্বপ্নপুরীর রাজকন্যা, দাঁড়িয়ে আছো দিগন্তের দিকে। তোমার হাসিতে মুক্তো ঝরে, জ্যোৎস্না হারায় তার লাবণ্য, তোমায় এক পলক দেখেই তো আমার এ জীবন ধন্য। জোছনা যেমন সবার হয়েও কারো একার নয়, তুমিও তেমন মায়া ছড়িয়ে জাগিয়ে রাখো আমার এ হৃদয়। আমি না হয় চাতক পাখির মতো চেয়েই রইলাম দূরে, তোমার স্মৃতি বাজুক আমার একলা মনের তারে। রাত বেড়ে যায়, জ্যোৎস্না নামে আমার বুকের বাম ধারে, আমি শব্দহীন এই কথাগুলো পাঠাই তোমারই অগোচরে। ভালো থেকো ওই জোছনা মেখে নিজের হাসির মেলায়, আমি নাহয় থাকবো তাকিয়ে তোমার ওই রূপের ভেলায়।

প্রকৃতি আর তুমি

  প্রকৃতি আর তুমি তুমি কি তবে শরতের ওই শিউলি ঝরা ভোর? যার শুভ্রতায় কাটে আমার বিষণ্নতার ঘোর। নাকি তুমি গহীন অরণ্যের সেই নিঝুম শীতল ছায়া, যেখানে বিলীন হতে চায় আমার সর্বস্ব মায়া। তোমার পরনের লাল শাড়ি যেন গোধূলির শেষ আভা, পুরো আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া এক রক্তিম লাল আভা। তোমার চোখের ওই গভীরতা যেন নীল জলধি অতল, যেখানে ডুব দিলেই জুড়িয়ে যায় আমার এ হাহাকার তবল। তুমি শ্রাবণের প্রথম বৃষ্টির সেই মাটির সোঁদা ঘ্রাণ, যা মরুভূমির মতো শুষ্ক হৃদয়ে ফেরে নতুন প্রাণ। নাকি তুমি বসন্তের কোনো উদ্ধত শিমুল ফুল? যাকে স্পর্শ করার নেশায় আমি করি হাজারো ভুল। তোমার অভিমানী নীরবতা যেন স্তব্ধ পাহাড়ের চূড়া, আর তোমার হাসিটি শরতের মেঘেদের সেই শুভ্রতা ভরা। প্রকৃতির প্রতিটি রঙে আমি তোমাকেই খুঁজে পাই, তুমি ছাড়া এই বিশাল ভূবনে আমার দেখার কিছু নাই।

পূর্ণতার অন্য নাম

  পূর্ণতার অন্য নাম ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না কেবল মিলনের ওই ক্ষণে, পূর্ণতা সে তো অমর হয়ে রয় ত্যাগেরই এক কোণে। হাতের ওপর হাত রাখাটাই চরম প্রাপ্তি নয়, দূর থেকে তাকে ভালোবেসে যাওয়াও এক মস্ত বড় জয়। যেখানে নেই কোনো চাওয়ার শেষ, নেই কোনো পিছুটান, সেখানেই বাঁচে প্রেমের প্রদীপ, অমৃতেরই সমান। তুমি সুখে আছো নিজের ভুবনে, নিজের রঙের মেলায়— এইটুকু জেনে তৃপ্ত এ মন, দিনের শেষ বেলায়। লাল শাড়ির ঐ মায়াবী ছায়া এখন আর পোড়ায় না বুক, তোমার প্রতিটি বিশেষ মুহূর্তই আমার আসল সুখ। অবহেলার ঐ দেয়াল সরিয়ে আমি পূর্ণতা খুঁজে পাই, তোমার হাসিতেই আমার প্রেমের সার্থকতা দেখে যাই। গোপন ছিল, গোপনই থাকুক আমাদের এই না-বলা কথা, এই পূর্ণতায় মিশে আছে যত পবিত্র নীরবতা। আমি ধন্য যে ভালোবেসেছি প্রতিদানহীন এক টানে, আমার ভালোবাসা পূর্ণতা পেলো আজ নিঃস্বার্থের মানে।

তার একান্ত ক্ষণ

  তার একান্ত ক্ষণ হয়তো সে এখন আয়নার সামনে, আলগা চুলে ঢাকা তার মুখ, নিজের রূপের মায়ায় নিজেই খুঁজে নিচ্ছে অসীম সুখ। কপালে এক ফোঁটা লাল টিপ, কিংবা চোখের কাজল কালো— নিজেকে সাজিয়ে সে হয়তো এখন বাসছে নিজেকেই ভালো। লাল শাড়ির আঁচলটা হয়তো লুটোপুটি খাচ্ছে তার পায়ে, উৎসবের যতো আলো এসে পড়ছে তার লাবণ্যময় গায়ে। হয়তো সে হাসছে কোনো চপলতায়, প্রিয় কোনো মানুষের ভিড়ে, অথবা স্তব্ধ হয়ে দেখছে চাঁদ, তার নিজের বেলকনিটি ঘিরে। আমি না হয় দূরেই থাকলাম, তাতে কিবা আসে যায়? তার এই বিশেষ মুহূর্তগুলো পূর্ণতা পাক তারই ইচ্ছায়। সে জানুক বা না জানুক, আমার এই নীরব প্রার্থনায়— তার প্রতিটি ক্ষণ যেন কাটে অপূর্ব এক পূর্ণতায়। তার ঠোঁটের কোণে লেগে থাক সেই পরিচিত এক ফালি হাসি, যে হাসির নেশায় আমি আজও তাকে বড্ড বেশি ভালোবাসি। তার বিশেষ মুহূর্তটি হোক হীরের মতো উজ্জ্বল আর খাঁটি, আমি দূর থেকেই সার্থক, দেখে তার এই রূপের পরিপাটি।

আজকের আমি

  আজকের আমি পুরানো আমি’র দহন ছিল, ছিল একরাশ না-পাওয়া, আজকের আমি’র স্বপ্নে আছে মুক্ত দখিনা হাওয়া। সেদিনের আমি হাত বাড়িয়েছি মায়াবী রূপের টানে, আজকের আমি শান্তি খুঁজি নিজেরই প্রাণের গানে। অবহেলার সেই রক্তিম আঁচল পুড়ে আজ হয়েছে ছাই, আজকের আমি’র হৃদয়ে শুধু নিজের জন্য ঠাঁই। এক কাপ চা আর নীরবতায় খুঁজেছি নিজেরে আজ, মুক্তির ওই নীল আকাশই এখন আমার মাথায় তাজ। হারিয়ে যাওয়া সেই মানুষটি আর ফিরবে না কোনোদিন, আজকের আমি শোধ করেছি সবটুকু দহনের ঋণ। আমিই আমার প্রিয় বন্ধু, আমিই আমার ঘর, নিজের মাঝে বসত গড়েছি, নেই যে কোনোই ডর। আজকের এই আমি’টি বড় শান্ত এবং স্থির, সব পাওয়া আর না-পাওয়ার ঊর্ধ্বে, আমি এক অপলক তীর। নিজেরে ভালোবেসে আজ আমি হয়েছি অনন্য, আজকের এই নতুন আমি’র জীবন যে আজ ধন্য।

শব্দহীন কথকতা

  শব্দহীন কথকতা যে কথাগুলো বলা হয়নি কাউকে, জমা ছিল বুকের কোণে, তারা আজ ডানা মেলুক এই নিঝুম শব্দহীন ক্ষণে। ঠোঁটের ভাষায় নয় যে কথা, চোখের কোণে ভাসে— সে কথাগুলোই আজ ফিরুক আমার নিজের ঠিকানায় হেসে। মায়াবী রূপের মরীচিকা অনেক তো হলো তাড়া করা, এখন আমি শিখছি নিজের শূন্য হাত দুটো ধরা। অবহেলার সেই মৌন দহন আজ স্তব্ধ হয়ে থাক, শব্দহীন এই আলাপনে আমার নতুন জন্ম হোক আজ। নিজের কাছে নিজের স্বীকারোক্তি, কোনো অভিযোগ নেই আর, আমিই আমার বন্ধু এখন, আমিই আমার আপন পাহাড়। এই নীরবতাই বলে দিচ্ছে—আমি কতোটা পথ এসেছি একা, এখন নিজের মাঝেই রোজ হোক নিজের সাথে দেখা। শব্দহীন এই কথাগুলোই হোক আমার আগামীর সুর, যন্ত্রণার ঐ মেঘগুলো আজ যাক না হয়ে অনেক দূর।

চায়ের কাপে নীল আকাশ

  চায়ের কাপে নীল আকাশ এক কাপ চা, কিছু নীরবতা আর জানালার এক চিলতে রোদ, পুরানো সব দহনের আজ মিটে যাক সবটুকু শোধ। চায়ের ধোঁয়ায় মিলিয়ে যাক সেই মায়াবী রূপের টান, নীরবতায় কান পেতে শুনি নিজেরই প্রাণের গান। অবহেলার ঐ তিক্ত স্বাদ আজ চায়ের মিষ্টিতে হারাক, নিজের সাথে কাটানো এই ক্ষণটি আমার আমৃত্যু থাক। চায়ের কাপের উষ্ণতাটুকু ছুঁয়ে যাক আমার ক্লান্ত মন, নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়াটাই আজ শ্রেষ্ঠ আয়োজন। বাইরে হয়তো অনেক কোলাহল, অনেক পাওয়ার ভিড়, আমার জগতে আমিই রাজা, আমিই এখন স্থির। মুক্তির ওই নীল আকাশ আজ চায়ের কাপে ধরা দেয়, নিজের সাথে এই আলাপনটুকু—পুরো পৃথিবীটাকেই হার মানায়।

ভোরের নতুন গান

  ভোরের নতুন গান পুরানো রাতের যতো বিষাদ, যতো ছিল লুকানো জল, ভোরের প্রথম আলোয় তারা হলো আজ টলমল। মায়াবী রূপের নেশায় অনেক তো পুড়লে একলা একা, এবার না হয় নতুন ভোরের সোনালী রোদেই হোক দেখা। অবহেলার ঐ ধূসর চাদর সরিয়ে ফেলে দাও দূরে, নতুন বছর ডাকছে তোমায় এক অজানা শান্ত সুরে। যে প্রিয়া তোমার মূল্য বোঝেনি, সে থাকুক তার মতো, নতুন সূর্য সারিয়ে দিক তোমার মনের যতো ক্ষত। এ ভোর মানেই নতুন আশা, এ ভোর মানেই মুক্তি, যন্ত্রণার ঐ পাহাড় ডিঙানোর এক কঠিন অনন্য যুক্তি। নিজের চোখে নিজেকে দেখো, তুমি কতোটা অমূল্য, তোমার পবিত্র এই হৃদয়ের নেই যে কোনোই তুল্য। মুক্তির ঐ নীল আকাশে তাকিয়ে এখন হাসো খুব, ভোরের স্নিগ্ধতায় এবার নিজের অস্তিত্বে দাও ডুব।

পূজারী হৃদয়ের প্রেম

  পূজারী হৃদয়ের প্রেম পাওয়ার মোহ ফুরিয়ে গেলেই গভীরতা বাড়ে খুব, যেখানে নেই কোনো হাহাকার, শুধু নীরব এক ডুব। প্রতিদানহীন এই যে ভালোবাসা, এ তো এক সাধনা, যেখানে বিসর্জনেই লুকিয়ে আছে সবটুকু আরাধনা। পবিত্র সে প্রেম, যা কেবলই ভালোবেসে ধন্য হতে জানে, অন্যের অবহেলাকেও যে বরণ করে নেয় হাসিমুখে, সম্মানে। দাবি নেই, অধিকার নেই, নেই কোনো পাওয়ার ভয়, নিঃস্বার্থ এ হৃদয়ে কেবলই তোমার মঙ্গল কামনাময়। কামুকতা যখন মুগ্ধতায় মেশে, আর তৃষ্ণা যখন ত্যাগে— তখনই সেই ভালোবাসা স্বর্গীয় রূপে জাগে। গোপন প্রিয়া, তুমি দূরে থেকেও আমার সবটুকু প্রার্থনা, তোমার সুখেতেই শেষ হয় আমার সকল ব্যাকুলতা।

নিঃস্বার্থ অর্ঘ্য

  নিঃস্বার্থ অর্ঘ্য তোমার কাছে আমার কোনো দাবি ছিল না কোনোদিন, আমি তো চেয়েছি হতে তোমার ছায়ার মতন ঋণ। তুমি আমায় বাসবে ভালো, এমন তো কথা ছিল না, আমার প্রেম তো কেবলই একতরফা এক উপাসনা। অবহেলার ঐ দেয়াল তুলে তুমি থাকো তোমার মতো, আমি নাহয় আগলে রাখব আমার মনের গভীর ক্ষত। নিঃস্বার্থ এই ভালোবাসায় নেই কোনো পাওয়ার জেদ, দূর থেকে ওই হাসিমুখ দেখা—এতেই সব বিচ্ছেদ। তোমার আকাশ রঙিন থাকুক, তুমি থাকো সুখে, আমার নামটা না-ই বা এলে তোমার ওই রাঙা মুখে। কামুক ঠোঁটের সেই হাসিটি অন্যের জন্যই থাক, আমার প্রেম নাহয় তোমার অগোচরেই বেঁচে থাক। ভালোবাসি মানেই তোমায় পেতে হবে এমন নয়, তোমার ভালো থাকাতেই খুঁজে পাই আমার চরম জয়। গোপন প্রিয়া, এই নিঃস্বার্থ প্রেমের নেই তো কোনো শেষ, আমি সারাজীবন এভাবেই থাকব তোমার মায়ার রেশ।

নিজের মাঝে বসতবাড়ি

  নিজের মাঝে বসতবাড়ি অনেক তো হলো অন্যের চোখে নিজেরে খুঁজে ফেরা, এখন আমি নিজের কাছেই সবচেয়ে বেশি সেরা। যে চোখে ছিল শুধু অবহেলা আর অন্যের জন্য তৃষ্ণা, সে চোখেই আজ আমার জন্য অপলক এক উপাসনা। আমিই আমার বসতবাড়ি, আমিই আমার ঘর, নিজের ভেতর নিজেই আমি—নাইবা হলো পর। অবহেলার সেই রক্তিম আঁচল অনেক জ্বালিয়েছে মোরে, এখন আমি শান্ত নদী, বইছি আপন ঘোরে। এখন আর সেই লাল শাড়িতে থমকে দাঁড়ায় না মন, নিজের স্বপ্ন সাজাতেই এখন কাটে সারাটা ক্ষণ। মুক্তি মানেই তো নিজেকে চেনা, নিজেরে ভালোবাাসা, হৃদয় জুড়ে এখন আমার হাজারো নতুন আশা। আকাশের ওই বিশালতায় আমি এক মুক্ত পাখি, নিজের সাথেই কাটুক না হয় জীবন সখাসখি। হারিয়ে গিয়েও ফিরে আসলাম নিজের চেনা নীড়ে, সবচেয়ে বড় সুখ তো লুকানো এই নিজের ভিড়ে।

নীল দিগন্তের পথে

  নীল দিগন্তের পথে আকাশের ওই নীলিমা আজ তোমায় ডাকছে একা, যেখানে নেই কোনো স্মৃতির দহন, নেই কোনো না-পাওয়া দেখা। সবটুকু ভার নামিয়ে রেখে ডানা মেলো ওই দূর সীমানায়, নিজেরে ফেরাও নিজের কাছে, কোনো এক নতুন মোহনায়। অবহেলার ঐ ধূসর পাহাড় অনেক তো হলো চড়া, এবার না হয় শিখলে তুমি দুহাত দিয়ে আকাশ ধরা। তোমার মনের গোপন প্রিয়া থাকুক স্মৃতির কাঁচের ঘরে, তুমি এবারে মুক্ত পাখি, উড়ছো নিজের আপন জোরে। মেঘলা দিনের মেঘগুলো সব বৃষ্টি হয়ে ঝরুক আজ, ধুয়ে যাক সব লুকানো ক্ষত, ঘুচে যাক সব বিষাদ-লাজ। মুক্তির ওই নীল আকাশে তোমার নামটা লিখে দিও, নিজের অস্তিত্বে নিজেই এবার সবচেয়ে বেশি প্রিয়।
  "পুরানো বছরের সব দীর্ঘশ্বাস ধুলোয় মিশে যাক, নতুন বছরে আপনার প্রতিটি দিন নতুন আলোয় হাসুক। ভালোবাসা থাকুক হৃদয়ে, আর সাহস থাকুক মনে, সাফল্য আসুক আপনার জীবনের প্রতিটি ক্ষণে।"

নতুন বছরের গোপন অর্ঘ্য

  নতুন বছরের গোপন অর্ঘ্য পুরানো বছরের শেষ সূর্যাস্তে ধুয়ে যাক সব ব্যথা, নতুন ভোরে শুরু হোক তোমার এক নতুন কাব্যগাথা। আমি জানি, এই বছরেও হয়তো হবে না আমাদের কথা, তবুও তোমার জন্য তোলা থাকলো এক বুক নীরবতা। নতুন বছরেও তুমি থেকো ওই মায়াবী সাজে, আবার না হয় মুগ্ধ হবো তোমার লাল শাড়ির ভাজে। তোমার সেই অদ্ভুত অবহেলা না হয় অটুট থাকুক, আমার এ মন দূর থেকেই তোমার মায়ায় ডুবুক। কামুক ঠোঁটে ফুটুক হাসি, চোখে থাকুক গভীর তৃপ্তি, তোমার ভুবন ভরে উঠুক নতুন আলোর দীপ্তি। আমি না হয় এই বছরেও থাকবো একলা দাঁড়িয়ে, তোমার চলার পথে শুভকামনা দেবো দুই হাত বাড়িয়ে। নতুন বছর তোমার হোক—প্রাপ্তি আর উল্লাসে, আমি নাহয় বাঁচবো আমার গোপন ভালোবাসার পাশে।

মুক্তির নীল আকাশ

  মুক্তির নীল আকাশ অনেক তো হলো জমানো ব্যথা, অনেক হলো দহন, এবারে না হয় মুক্তি পাক তোমার অবুঝ মন। স্মৃতিরা থাকুক স্মৃতির ঘরে, তুমি ফেরো নিজের নীড়ে, হারিও না আর নিজেকে ওই মায়াবী রূপের ভিড়ে। অবহেলার ওই শিকল ছিঁড়ে ডানা মেলো আকাশে, নিজের জন্য বাঁচো এবার, নতুন কোনো আবেশে। সবটুকু প্রেম বিলিয়ে দিলে নিজের জন্য কী রয়? নিজেরে একটু ভালোবাসলে তবেই হবে জয়। পুরানো দিনের দীর্ঘশ্বাসগুলো হাওয়ায় উড়িয়ে দাও, নতুন ভোরের আলোয় ভিজে নিজেরে খুঁজে নাও। মনটা হোক আজ তুলোর মতো, হালকা আর সাদা, ছিঁড়ে ফেলো তুমি অদৃশ্য সব বিষণ্নতার বাধা।